Mini Cart

শাড়িতে নারী: ঐতিহ্যের পরশে নারীর অনন্য সৌন্দর্যের গল্প

শাড়ি, যা নারীর ঐতিহ্য এবং সৌন্দর্যের প্রতীক, যুগ যুগ ধরে নারীদের পোশাক হিসেবে জনপ্রিয়। “শাড়িতে নারী”—এই প্রবাদটি নারীর সৌন্দর্য এবং শাড়ির সঙ্গে তার গভীর সংযোগকে তুলে ধরে। শাড়ি পরা নারীরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচয় বহন করেন এবং এটি তাদের সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। শাড়ি শুধু একটি পোশাক নয়; এটি নারীর আত্মবিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রতিফলন।

শাড়ি পরার বিভিন্ন স্টাইল

শাড়ি এমন একটি পোশাক যা প্রতিটি নারীকে ভিন্ন ভিন্ন লুকে উপস্থাপন করতে সক্ষম। এটি পরার স্টাইল এবং কাপড়ের ধরন অনুযায়ী প্রতিবার নতুন রূপ দেয়। ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে শাড়ি নারীদের প্রিয় পোশাক।

শাড়ি পরার স্টাইল: ভিন্ন ভিন্ন লুক

নারীরা সবসময় চান ভিন্ন কিছু, নতুন কিছু। আর শাড়ি সেই চাহিদা পূরণে সবচেয়ে উপযুক্ত। শাড়ি পরার বিভিন্ন স্টাইল প্রতিবারই এক নতুন অভিজ্ঞতা দেয়।

নারীদের সৌন্দর্য শাড়িতে

এশিয়ার নারীরা বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, ও শ্রীলঙ্কার নারীরা শাড়িতে সবচেয়ে সুন্দর দেখায়। তাদের গায়ের রঙ, চুলের ধরন এবং ঐতিহ্যবাহী গয়নার সঙ্গে শাড়ির সমন্বয় তাদের অনন্য করে তোলে।

গবেষণা থেকে তথ্য

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে শাড়ি পরা নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তারা নিজেদের আরও সুন্দর মনে করেন। এছাড়া, বিভিন্ন ধরনের কাপড় যেমন সিল্ক, তন্তু, জামদানি, বেনারসি ইত্যাদি ব্যবহার করে তৈরি শাড়িগুলো ভিন্ন ভিন্ন লুক প্রদান করে।

শাড়ি শুধুমাত্র একটি পোশাক নয়; এটি নারীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সৌন্দর্যের প্রতীক। সঠিক স্টাইলে শাড়ি পরলে প্রতিটি নারী তার নিজস্ব অনন্য রূপ ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

১. নিভি স্টাইল: শাড়ি পরার ক্লাসিক এবং সহজ পদ্ধতি


নিভি স্টাইল শাড়ি পরার একটি জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি, যা মূলত ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। এটি শাড়ি পরার সবচেয়ে সহজ এবং ক্লাসিক স্টাইলগুলোর মধ্যে একটি, যা যেকোনো উৎসব বা অফিসিয়াল অনুষ্ঠানের জন্য একেবারে উপযুক্ত। নিচে নিভি স্টাইলে শাড়ি পরার ধাপগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

ধাপ ১: শাড়ির নিচের
  • প্রান্ত কোমরে গুঁজুন
  • প্রথমে পেটিকোট বা আন্ডারস্কার্ট পরে নিন।
  • শাড়ির এক প্রান্ত কোমরের ডান পাশে গুঁজুন।
  • শাড়িটি কোমরের চারপাশে একবার ঘুরিয়ে নিন, যাতে এটি পুরোপুরি আচ্ছাদিত হয়।
ধাপ ২: প্লিট তৈরি করুন
  • শাড়ির সামনের অংশ থেকে প্রায় ৫-৭টি সমান প্লিট তৈরি করুন।
  • প্রতিটি প্লিটের প্রস্থ প্রায় ৪-৫ ইঞ্চি হওয়া উচিত।
  • প্লিটগুলো একসঙ্গে ধরে পেটিকোটের সামনে গুঁজুন।
ধাপ ৩: আঁচল সাজানো
  • শাড়ির বাকি অংশটি কোমরের চারপাশে ঘুরিয়ে নিন এবং আঁচলটি ডান কাঁধে ফেলে দিন।
  • আঁচলের দৈর্ঘ্য এমনভাবে রাখুন যাতে এটি হাঁটু পর্যন্ত ঝুলে থাকে।
ধাপ ৪: আঁচল ঠিক করা
  • আঁচলটি কাঁধে পিন দিয়ে আটকে দিন, যাতে এটি সঠিকভাবে থাকে এবং চলাফেরায় অসুবিধা না হয়।
  • চাইলে আঁচলের প্রান্তটি সুন্দরভাবে ভাঁজ করে সাজিয়ে নিতে পারেন।
ধাপ ৫: সম্পূর্ণ লুক ঠিক করা
  • সবকিছু ঠিকঠাক করে নিন এবং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন।
  • আপনার লুক সম্পূর্ণ করতে মানানসই গয়না এবং জুতা পরুন।
নিভি স্টাইলের বিশেষত্ব
  1. সহজ এবং আরামদায়ক: এই স্টাইলটি সহজেই পরা যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে আরামদায়ক থাকে।
  2. ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক: এটি ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মিশ্রণ, যা যেকোনো অনুষ্ঠানে মানানসই।
  3. ভিন্ন লুক: নিভি স্টাইল আপনাকে একটি মার্জিত এবং ক্লাসিক লুক দেয়, যা উৎসব বা অফিসিয়াল পরিবেশে নজর কাড়ে।

নিভি স্টাইল এমন একটি পদ্ধতি, যা নারীর সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তোলে। এটি পরার সহজ ধাপগুলো অনুসরণ করলে আপনি প্রতিবারই নতুন ও আকর্ষণীয় লুকে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবেন।

২. আটপৌরে (বাঙালি) স্টাইল: শাড়ি পরার ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি


আটপৌরে স্টাইল পশ্চিমবঙ্গের একটি বিশেষ শাড়ি পরার পদ্ধতি, যা বাঙালি নারীদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এটি মূলত পূজা, বিয়ে বা অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। আটপৌরে স্টাইল শাড়ি পরা সহজ হলেও এতে নারীর সৌন্দর্য এবং ব্যক্তিত্ব অসাধারণভাবে ফুটে ওঠে।
আটপৌরে স্টাইলে শাড়ি পরার ধাপগুলো

ধাপ ১: শাড়ির নিচের
  • প্রান্ত কোমরে গুঁজুন
  • প্রথমে পেটিকোট বা আন্ডারস্কার্ট পরে নিন।
  • শাড়ির এক প্রান্ত কোমরের ডান পাশে গুঁজুন।
  • শাড়িটি কোমরের চারপাশে একবার ঘুরিয়ে নিন, যাতে এটি পুরোপুরি ঢেকে যায়।
ধাপ ২: প্লিট তৈরি করুন
  • শাড়ির সামনের অংশ থেকে প্রায় ৫-৭টি সমান প্লিট তৈরি করুন।
  • প্রতিটি প্লিটের প্রস্থ প্রায় ৪-৫ ইঞ্চি হওয়া উচিত।
  • প্লিটগুলো একসঙ্গে ধরে পেটিকোটের সামনে গুঁজুন।
ধাপ ৩: আঁচল পেছন থেকে সামনে আনুন
  • শাড়ির বাকি অংশটি কোমরের চারপাশে ঘুরিয়ে নিন।
  • আঁচলটি পেছন থেকে এনে বাঁ হাতে ফেলে দিন।
  • আঁচলের দৈর্ঘ্য এমনভাবে রাখুন যাতে এটি হাঁটু পর্যন্ত ঝুলে থাকে।
ধাপ ৪: আঁচল ঠিক করা
  • আঁচলটি সুন্দরভাবে ভাঁজ করে বাঁ হাতে ধরে রাখুন বা পিন দিয়ে আটকে দিন।
  • চাইলে আঁচলের প্রান্তটি সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন।
ধাপ ৫: সম্পূর্ণ লুক ঠিক করা
  • সবকিছু ঠিকঠাক করে নিন এবং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন।
  • আপনার লুক সম্পূর্ণ করতে মানানসই গয়না ও চুলের সাজ বেছে নিন।
আটপৌরে স্টাইলের বিশেষত্ব
  1. ঐতিহ্যবাহী লুক: আটপৌরে স্টাইলে শাড়ি পরলে নারীর ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য আরও ফুটে ওঠে।
  2. উৎসবমুখর পরিবেশ: এটি পূজা বা বিয়ের মতো অনুষ্ঠানের জন্য আদর্শ।
  3. আরামদায়ক: এই স্টাইলটি আরামদায়ক এবং সহজেই পরিধানযোগ্য।

আটপৌরে (বাঙালি) স্টাইল শাড়ি পরার একটি চিরন্তন পদ্ধতি, যা বাঙালি নারীদের ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সঠিক ধাপে এই স্টাইলে শাড়ি পরলে আপনি প্রতিটি উৎসবে নিজেকে অনন্য এবং আকর্ষণীয় রূপে উপস্থাপন করতে পারবেন।

৩. গুজরাটি বা রাজরানি স্টাইল: শাড়ি পরার ঐতিহ্যবাহী এবং গর্জিয়াস পদ্ধতি


গুজরাটি বা রাজরানি স্টাইল শাড়ি পরার একটি বিশেষ পদ্ধতি, যা ভারতের গুজরাট থেকে উদ্ভূত। এই স্টাইলটি ঐতিহ্যবাহী এবং রাজকীয় লুক প্রদান করে। এটি বিশেষত ব্যবসায়িক অনুষ্ঠান এবং উৎসবে নারীদের আকর্ষণীয় ও গর্জিয়াস লুক দিতে ব্যবহৃত হয়।
গুজরাটি স্টাইলে শাড়ি পরার ধাপগুলো

ধাপ ১: শাড়ির নিচের
  • প্রান্ত কোমরে গুঁজুন প্রথমে পেটিকোট বা আন্ডারস্কার্ট পরে নিন।
  • শাড়ির এক প্রান্ত কোমরের ডান পাশে গুঁজুন।
  • শাড়িটি কোমরের চারপাশে একবার ঘুরিয়ে নিন, যাতে এটি পুরোপুরি ঢেকে যায়।
ধাপ ২: প্লিট তৈরি করুন
  • সামনের অংশ থেকে প্রায় ৫-৭টি সমান প্লিট তৈরি করুন।
  • প্রতিটি প্লিটের প্রস্থ প্রায় ৪-৫ ইঞ্চি হওয়া উচিত।
  • প্লিটগুলো একসঙ্গে ধরে পেটিকোটের সামনে গুঁজুন।
ধাপ ৩: আঁচল পেছন থেকে সামনে আনুন
  • শাড়ির বাকি অংশটি কোমরের চারপাশ দিয়ে ঘুরিয়ে নিন।
  • আঁচলটি পেছন থেকে এনে ডান কাঁধে ফেলে দিন।
ধাপ ৪: আঁচল ঠিক করা
  • এবং কোমরে আটকানো
  • আঁচলটি ডান কাঁধ থেকে সামনের দিকে ঝুলিয়ে রাখুন।
  • আঁচলের বাকি অংশটি বাম কোমরে এনে পিন দিয়ে আটকে দিন, যাতে এটি সঠিকভাবে থাকে এবং চলাফেরায় অসুবিধা না হয়।
ধাপ ৫: সম্পূর্ণ লুক ঠিক করা
  • আঁচলটি সুন্দরভাবে ভাঁজ করে সাজিয়ে নিন।
  • আপনার লুক সম্পূর্ণ করতে মানানসই গয়না, বিশেষত বড় কানের দুল এবং চুড়ি পরুন।
গুজরাটি স্টাইলের বিশেষত্ব
  1. রাজকীয় লুক: এই স্টাইলটি আপনাকে একটি ঐতিহ্যবাহী ও রাজকীয় রূপ দেয়।
  2. উৎসবমুখর পরিবেশ: এটি উৎসব, বিয়ে বা ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানের জন্য আদর্শ।
  3. আরামদায়ক: আঁচলটি সঠিকভাবে আটকে রাখলে এটি আরামদায়ক এবং চলাফেরায় সুবিধাজনক।

গুজরাটি বা রাজরানি স্টাইল শাড়ি পরার একটি চিরন্তন এবং আকর্ষণীয় পদ্ধতি, যা নারীর সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তোলে। সঠিক ধাপে এই স্টাইলে শাড়ি পরলে আপনি প্রতিটি অনুষ্ঠানে নিজেকে অনন্য এবং আকর্ষণীয় রূপে উপস্থাপন করতে পারবেন।

৪. মহারাষ্ট্রীয় কাস্তা স্টাইল: ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় শাড়ি পরার ধুতি পদ্ধতি


মহারাষ্ট্রীয় কাস্তা স্টাইল শাড়ি পরার একটি বিশেষ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি, যা ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে উদ্ভূত। এই স্টাইলটি ধুতি পরার মতো করে শাড়ি ড্রেপ করার জন্য পরিচিত। এটি নারীদের আরামদায়ক চলাফেরা এবং একটি অনন্য লুক প্রদান করে। বিশেষত ঐতিহ্যবাহী নৃত্য এবং সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই স্টাইলটি বেশ জনপ্রিয়।
মহারাষ্ট্রীয় কাস্তা স্টাইলে শাড়ি পরার ধাপগুলো

ধাপ ১: শাড়ির নিচের
  • প্রান্ত কোমরে গুঁজুন
  • প্রথমে পেটিকোট ছাড়া শাড়ি পরা শুরু করুন, কারণ এই স্টাইলে পেটিকোটের প্রয়োজন হয় না।
  • শাড়ির এক প্রান্ত কোমরের ডান পাশে গুঁজুন এবং এটি কোমরের চারপাশে একবার ঘুরিয়ে নিন।
ধাপ ২: প্লিট তৈরি করুন
  • সামনের অংশ থেকে প্রায় ৫-৭টি সমান প্লিট তৈরি করুন।
  • প্লিটগুলো একসঙ্গে ধরে সামনের দিকে টেনে নিন এবং এটি পায়ের মাঝখানে নিয়ে যান।
  • প্লিটগুলো পেছনে নিয়ে গিয়ে কোমরে গুঁজুন।
ধাপ ৩: পেছনের অংশ ঠিক করা
  • শাড়ির বাকি অংশটি পেছন থেকে সামনের দিকে নিয়ে আসুন।
  • এটি কোমরের বাম পাশে গুঁজুন, যাতে এটি ধুতির মতো দেখায়।
ধাপ ৪: আঁচল সাজানো
  • শাড়ির বাকি অংশটি সামনে এনে ডান কাঁধে ফেলে দিন।
  • আঁচলটি সুন্দরভাবে ভাঁজ করে কাঁধে আটকে দিন বা পিন ব্যবহার করুন।
ধাপ ৫: সম্পূর্ণ লুক ঠিক করা
  • সবকিছু ঠিকঠাক করে নিন এবং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন।
  • আপনার লুক সম্পূর্ণ করতে মানানসই গয়না, বিশেষত নথ বা বড় নাকের দুল এবং চুড়ি ব্যবহার করুন।
মহারাষ্ট্রীয় কাস্তা স্টাইলের বিশেষত্ব
  1. আরামদায়ক চলাফেরা: ধুতি স্টাইলে ড্রেপ করার কারণে এটি আরামদায়ক এবং চলাফেরার জন্য সুবিধাজনক।
  2. ঐতিহ্যবাহী লুক: এটি মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়।
  3. উপযুক্ততা: ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সংস্কৃতিক পরিবেশে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।


মহারাষ্ট্রীয় কাস্তা স্টাইল শাড়ি পরার একটি চিরন্তন এবং আকর্ষণীয় পদ্ধতি, যা নারীর সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বকে আরও ফুটিয়ে তোলে। সঠিক ধাপে এই স্টাইলে শাড়ি পরলে আপনি প্রতিটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে নিজেকে অনন্য রূপে উপস্থাপন করতে পারবেন।

৫. তামিলিয়ান বা মাদিসার স্টাইল: শাড়ি পরার ঐতিহ্যবাহী এবং ধর্মীয় পদ্ধতি

তামিলিয়ান বা মাদিসার স্টাইল শাড়ি পরার একটি বিশেষ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি, যা ভারতের তামিলনাড়ু থেকে উদ্ভূত। এটি মূলত ৯ গজ লম্বা শাড়ি দিয়ে ড্রেপ করা হয় এবং ধুতি ও শাড়ির মিশ্রণে তৈরি এই স্টাইলটি অত্যন্ত অনন্য। বিশেষত ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং বিয়েতে এই স্টাইলটি ব্যবহৃত হয়, যা নারীদের একটি ঐতিহ্যবাহী এবং রাজকীয় লুক প্রদান করে।

তামিলিয়ান বা মাদিসার স্টাইলে শাড়ি পরার ধাপগুলো
ধাপ ১: শাড়ির নিচের অংশ
  • কোমরে গুঁজুন
  • একটি ৯ গজ লম্বা শাড়ি বেছে নিন।
  • শাড়ির এক প্রান্ত কোমরের ডান পাশে গুঁজুন এবং এটি কোমরের চারপাশে একবার ঘুরিয়ে নিন।
ধাপ ২: প্লিট তৈরি করুন
  • সামনের অংশ থেকে প্রায় ৫-৭টি সমান প্লিট তৈরি করুন।
  • প্লিটগুলো একসঙ্গে ধরে সামনের দিকে টেনে নিন এবং এটি পায়ের মাঝখানে নিয়ে যান।
  • প্লিটগুলো পেছনে নিয়ে গিয়ে কোমরে গুঁজুন, যাতে এটি ধুতির মতো দেখায়।
ধাপ ৩: পেছনের অংশ ঠিক করা
  • শাড়ির বাকি অংশটি পেছন থেকে সামনের দিকে এনে কোমরের বাম পাশে গুঁজুন।
  • এটি এমনভাবে সাজান যাতে পুরো শরীর সুন্দরভাবে ঢেকে যায়।
ধাপ ৪: আঁচল সাজানো
  • শাড়ির বাকি অংশটি সামনের দিক থেকে ঘুরিয়ে ডান কাঁধে ফেলে দিন।
  • আঁচলটি সুন্দরভাবে ভাঁজ করে কাঁধে আটকে দিন বা পিন ব্যবহার করুন।
ধাপ ৫: সম্পূর্ণ লুক ঠিক করা
  • সবকিছু ঠিকঠাক করে নিন এবং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন।
  • আপনার লুক সম্পূর্ণ করতে মানানসই গয়না, বিশেষত সোনার চুড়ি, নথ এবং বড় কানের দুল ব্যবহার করুন।
তামিলিয়ান বা মাদিসার স্টাইলের বিশেষত্ব
  1. ঐতিহ্যবাহী রূপ: এই স্টাইলটি তামিল সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়।
  2. উপযুক্ততা: ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা এবং বিয়ের জন্য আদর্শ।
  3. আরামদায়ক চলাফেরা: ধুতি ও শাড়ির মিশ্রণে তৈরি এই স্টাইলটি আরামদায়ক এবং চলাফেরায় সুবিধাজনক।

তামিলিয়ান বা মাদিসার স্টাইল শাড়ি পরার একটি চিরন্তন এবং আকর্ষণীয় পদ্ধতি, যা নারীর সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বকে আরও ফুটিয়ে তোলে। সঠিক ধাপে এই স্টাইলে শাড়ি পরলে আপনি প্রতিটি ধর্মীয় বা ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে নিজেকে অনন্য রূপে উপস্থাপন করতে পারবেন।

৬.বাটারফ্লাই স্টাইল: আধুনিক শাড়ি পরার আকর্ষণীয় পদ্ধতি

বাটারফ্লাই স্টাইল শাড়ি পরার একটি আধুনিক এবং আকর্ষণীয় পদ্ধতি, যা ভারতে উদ্ভূত হয়েছে। এটি মূলত নিভি স্টাইলের মতো, তবে এতে আঁচলটি সরু করে পেটের অংশ খোলা রাখা হয়। এই স্টাইলটি নারীদের একটি গ্ল্যামারাস এবং আকর্ষণীয় লুক দেয়, যা পার্টি এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য একেবারে আদর্শ।

বাটারফ্লাই স্টাইলে শাড়ি পরার ধাপগুলো
ধাপ ১: শাড়ির নিচের
  • প্রান্ত কোমরে গুঁজুন
  • প্রথমে পেটিকোট বা আন্ডারস্কার্ট পরে নিন।
  • শাড়ির এক প্রান্ত কোমরের ডান পাশে গুঁজুন।
  • শাড়িটি কোমরের চারপাশে একবার ঘুরিয়ে নিন, যাতে এটি পুরোপুরি ঢেকে যায়।
ধাপ ২: প্লিট তৈরি করুন
  • সামনের অংশ থেকে প্রায় ৫-৭টি সমান প্লিট তৈরি করুন।
  • প্লিটগুলো একসঙ্গে ধরে পেটিকোটের সামনে গুঁজুন।
ধাপ ৩: আঁচল সরু করে সাজানো
  • শাড়ির বাকি অংশটি কোমরের চারপাশ দিয়ে ঘুরিয়ে নিন।
  • আঁচলটি ডান কাঁধে ফেলে দিন এবং এটি সরু ও হালকা ভাঁজ করুন।
  • আঁচলের প্রান্তটি এমনভাবে সাজান যাতে পেটের অংশ খোলা থাকে এবং এটি একটি বাটারফ্লাই আকৃতি তৈরি করে।
ধাপ ৪: আঁচল ঠিক করা
  • আঁচলটি কাঁধে পিন দিয়ে আটকে দিন, যাতে এটি সঠিকভাবে থাকে এবং চলাফেরায় অসুবিধা না হয়।
  • চাইলে আঁচলের প্রান্তটি সুন্দরভাবে ভাঁজ করে আরও আকর্ষণীয় লুক দিতে পারেন।
ধাপ ৫: সম্পূর্ণ লুক ঠিক করা
  • সবকিছু ঠিকঠাক করে নিন এবং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন।
  • আপনার লুক সম্পূর্ণ করতে মানানসই গয়না, বিশেষত ঝুমকা বা বড় কানের দুল এবং ব্রেসলেট ব্যবহার করুন।
বাটারফ্লাই স্টাইলের বিশেষত্ব
  1. গ্ল্যামারাস লুক: এই স্টাইলটি নারীদের একটি আধুনিক এবং আকর্ষণীয় রূপ দেয়।
  2. উপযুক্ততা: পার্টি, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং ফ্যাশন শো-এর জন্য আদর্শ।
  3. আরামদায়ক: আঁচল সরু করে পরার কারণে এটি হালকা এবং আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।

বাটারফ্লাই স্টাইল শাড়ি পরার একটি আধুনিক এবং আকর্ষণীয় পদ্ধতি, যা নারীর সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তোলে। সঠিক ধাপে এই স্টাইলে শাড়ি পরলে আপনি প্রতিটি পার্টি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে নজর কাড়তে পারবেন এবং নিজেকে আরও আত্মবিশ্বাসী মনে করবেন।

৭. মারমেইড স্টাইল: শাড়ি পরার আধুনিক এবং গ্ল্যামারাস পদ্ধতি

মারমেইড স্টাইল শাড়ি পরার একটি আধুনিক ফিউশন পদ্ধতি, যা নারীদের একটি আকর্ষণীয় এবং মৎস্যকন্যার মতো লুক প্রদান করে। এই স্টাইলটি বিশেষত গ্ল্যামারাস অনুষ্ঠান, যেমন পার্টি বা রেড কার্পেট ইভেন্টের জন্য আদর্শ। এটি শরীরের সঙ্গে আটসাঁট করে ড্রেপ করা হয়, যা নারীর আকৃতিকে আরও ফুটিয়ে তোলে এবং নজর কাড়ে।

মারমেইড স্টাইলে শাড়ি পরার ধাপগুলো
ধাপ ১: শাড়ির নিচের
  • প্রান্ত কোমরে গুঁজুন
  • প্রথমে পেটিকোট বা আন্ডারস্কার্ট পরে নিন।
  • শাড়ির এক প্রান্ত কোমরের ডান পাশে গুঁজুন।
  • শাড়িটি কোমরের চারপাশে একবার ঘুরিয়ে নিন, যাতে এটি পুরোপুরি ঢেকে যায়।
ধাপ ২: প্লিট তৈরি করুন
  • সামনের অংশ থেকে প্রায় ৫-৭টি সমান প্লিট তৈরি করুন।
  • প্রতিটি প্লিটের প্রস্থ ছোট রাখুন, যাতে এটি শরীরের সঙ্গে আটসাঁট থাকে।
  • প্লিটগুলো একসঙ্গে ধরে পেটিকোটের সামনে গুঁজুন।
ধাপ ৩: আঁচল সরু করে সাজানো
  • শাড়ির বাকি অংশটি কোমরের চারপাশ দিয়ে ঘুরিয়ে নিন।
  • আঁচলটি ডান কাঁধে ফেলে দিন এবং এটি সরু ও হালকা ভাঁজ করুন।
  • আঁচলের প্রান্তটি এমনভাবে সাজান যাতে এটি শরীরের আকৃতি আরও ফুটিয়ে তোলে।
ধাপ ৪: আঁচল ঠিক করা এবং আটসাঁট লুক তৈরি করা
  • আঁচলটি কাঁধে পিন দিয়ে আটকে দিন, যাতে এটি সঠিকভাবে থাকে এবং চলাফেরায় অসুবিধা না হয়।
  • পুরো শাড়িটি এমনভাবে ড্রেপ করুন যাতে এটি মৎস্যকন্যার মতো আকৃতি দেয়।
ধাপ ৫: সম্পূর্ণ লুক ঠিক করা
  • সবকিছু ঠিকঠাক করে নিন এবং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখুন।
  • আপনার লুক সম্পূর্ণ করতে মানানসই গয়না, বিশেষত ঝুমকা বা বড় কানের দুল এবং হাই হিল ব্যবহার করুন।
মারমেইড স্টাইলের বিশেষত্ব
  1. আকর্ষণীয় লুক: এই স্টাইলটি নারীদের একটি আধুনিক এবং আকর্ষণীয় রূপ দেয়।
  2. উপযুক্ততা: গ্ল্যামারাস অনুষ্ঠান, পার্টি বা ফ্যাশন ইভেন্টের জন্য আদর্শ।
  3. শরীরের আকৃতি ফুটিয়ে তোলা: আটসাঁট ড্রেপ করার কারণে এটি নারীর আকৃতিকে আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে।

মারমেইড স্টাইল শাড়ি পরার একটি আধুনিক এবং আকর্ষণীয় পদ্ধতি, যা নারীদের গ্ল্যামারাস রূপে উপস্থাপন করে। সঠিক ধাপে এই স্টাইলে শাড়ি পরলে আপনি প্রতিটি অনুষ্ঠানে নজর কাড়তে পারবেন এবং নিজেকে আরও আত্মবিশ্বাসী মনে করবেন।

মেহজীন ব্র্যান্ডের শাড়ি: আপনার স্টাইলের সেরা সঙ্গী

শাড়ি বাঙালি নারীর ঐতিহ্যের এক অনন্য পরিচায়ক। এটি পরার মাধ্যমে একজন নারীর সৌন্দর্য এবং ব্যক্তিত্ব আরও ফুটে ওঠে। মেহজীন ব্র্যান্ড, শাড়ি প্রস্তুতকারী হিসেবে, এই ঐতিহ্যকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। তাদের শাড়ি শুধুমাত্র মানসম্মত নয়, বরং এটি আপনার লুককে আরও স্টাইলিশ এবং আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সক্ষম। মেহজীন ব্র্যান্ডের হাফ সিল্ক, মিক্সড কটন, তসর,মিক্স সুতি শাড়ি, এবং মসলিন শাড়ি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আপনাকে দেবে অনন্য এক অভিজ্ঞতা।

শাড়ি পরার বিভিন্ন স্টাইল এবং মেহজীন ব্র্যান্ডের শাড়ি

১. নিভি স্টাইল

নিভি স্টাইল শাড়ি পরার একটি ক্লাসিক পদ্ধতি, যা যেকোনো উৎসব বা অফিসিয়াল অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত।

  • হাফ সিল্ক শাড়ি: নিভি স্টাইলে হাফ সিল্ক শাড়ি দারুণ মানানসই। এটি আপনার লুককে গর্জিয়াস করে তুলবে।
  • মিক্সড কটন শাড়ি: দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নিভি স্টাইলে মিক্সড কটন শাড়ি আরামদায়ক এবং ফ্যাশনেবল।
  • তসর শাড়ি: বিশেষ অনুষ্ঠানে নিভি স্টাইলে তসর শাড়ি আপনাকে আভিজাত্যপূর্ণ লুক দেবে।
  • মসলিন শাড়ি: গরমের দিনে মসলিন শাড়ি নিভি স্টাইলে আরামদায়ক ও স্নিগ্ধ লুক প্রদান করে।
  • মিক্স সুতি শাড়ি: সহজ এবং আরামদায়ক লুকের জন্য নিভি স্টাইলে মিক্স সুতি শাড়ি আদর্শ।
২. বাঙালি আটপৌরে স্টাইল

বাঙালি আটপৌরে স্টাইল ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত, যা পূজা বা বিয়ের অনুষ্ঠানে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

  • হাফ সিল্ক শাড়ি: আটপৌরে স্টাইলে হাফ সিল্ক শাড়ি আপনাকে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক লুক দেবে।
  • মিক্সড কটন শাড়ি: আটপৌরে স্টাইলে মিক্সড কটন শাড়ি হালকা এবং আরামদায়ক।
  • তসর শাড়ি: বিয়ে বা বড় অনুষ্ঠানে আটপৌরে স্টাইলে তসর শাড়ির রাজকীয়তা নজর কাড়ে।
  • মসলিন শাড়ি: আটপৌরে স্টাইলে মসলিন শাড়ির সূক্ষ্মতা আপনাকে আরও মার্জিত করে তুলবে।
  • মিক্স সুতি শাড়ি: আটপৌরে স্টাইলে মিক্স সুতি শাড়ির হালকা রঙ আপনাকে কোমল লুক দেবে।
৩. গুজরাটি বা রাজরানি স্টাইল

গুজরাটি বা রাজরানি স্টাইল পার্টি বা উৎসবের জন্য আদর্শ।

  • হাফ সিল্ক শাড়ি: গুজরাটি স্টাইলে হাফ সিল্ক শাড়ির ঝলমলে রঙ আপনাকে আকর্ষণীয় লুক দেবে।
  • মিক্সড কটন শাড়ি: গুজরাটি স্টাইলে মিক্সড কটন শাড়ির হালকা কাপড় আরামদায়ক হবে।
  • তসর শাড়ি: গুজরাটি স্টাইলে তসর শাড়ির গাঢ় রঙ আপনাকে আভিজাত্যপূর্ণ দেখাবে।
  • মসলিন শাড়ি: গুজরাটি স্টাইলে মসলিন শাড়ির সূক্ষ্মতা আপনাকে নান্দনিক লুক দেবে।
  • মিক্স সুতি শাড়ি: গুজরাটি স্টাইলে মিক্স সুতি শাড়ির হালকা ডিজাইন আপনাকে সহজ এবং মার্জিত দেখাবে।
৪. মহারাষ্ট্রীয় কাস্তা স্টাইল

মহারাষ্ট্রীয় কাস্তা স্টাইল ধুতি এবং শাড়ির মিশ্রণ, যা ঐতিহ্যবাহী নৃত্যে ব্যবহৃত হয়।

  • হাফ সিল্ক শাড়ি: কাস্তা স্টাইলে হাফ সিল্ক আপনার লুককে উজ্জ্বল করবে।
  • মিক্সড কটন শাড়ি: কাস্তা স্টাইলে মিক্সড কটনের আরামদায়ক ফ্যাব্রিক চলাচলের জন্য উপযোগী।
  • তসর শাড়ি: কাস্তা স্টাইলে তসর আপনার ঐতিহ্যবাহী লুককে আরও সমৃদ্ধ করবে।
  • মসলিন শাড়ি: কাস্তা স্টাইলে মসলিন আপনার লুকে সূক্ষ্মতা যোগ করবে।
৫. তামিলিয়ান বা মাদিসার স্টাইল

এই ৯ গজের ড্রেপিং পদ্ধতি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বিয়েতে জনপ্রিয়।

  • হাফ সিল্ক শাড়ি: তামিলিয়ান স্টাইলে হাফ সিল্কের ঝলমলে রঙ আপনাকে উজ্জ্বল দেখাবে।
  • মিক্সড কটন শাড়ি: তামিলিয়ান ড্রেপিংয়ে মিক্সড কটনের আরাম আপনাকে স্বস্তিদায়ক অনুভূতি দেবে।
  • তসর শাড়ি: তামিলিয়ান ড্রেপিংয়ে তসর আপনার রাজকীয় লুককে ফুটিয়ে তুলবে।
৬. বাটারফ্লাই স্টাইল

এই আধুনিক পদ্ধতিতে আঁচল সরু করে পেট খোলা রাখা হয়, যা পার্টিতে জনপ্রিয়।

  • হাফ সিল্ক শাড়ি: বাটারফ্লাই স্টাইলে হাফ সিল্কের ঝলক নজর কাড়ে।
  • মিক্সড কটন শাড়ি: বাটারফ্লাই ড্রেপিংয়ে মিক্সড কটনের হালকা কাপড় আরামদায়ক হবে।
৭. মারমেইড স্টাইল

আধুনিক ফিউশন পদ্ধতি, যা শরীরকে আটসাঁট করে ড্রেপ করা হয় এবং পার্টিতে নজর কাড়ে।

  • হাফ সিল্ক শাড়ি: মারমেইড ড্রেপিংয়ে হাফ সিল্ক আপনার আকৃতিকে ফুটিয়ে তোলে।

“শাড়িতে নারী”—এই প্রবাদটি সত্যিই নারীর ঐতিহ্যের প্রতীক, যা তার সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। মেহজীন ব্র্যান্ডের হাফ সিল্ক, মিক্সড কটন, তসর, এবং মসলিন শাড়িগুলো প্রতিটি অনুষ্ঠানে আপনার সেরা সঙ্গী হতে পারে।
আজই মেহজীন ব্র্যান্ডের একটি সুন্দর শাড়ি বেছে নিন এবং নিজের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করুন!

m.me/mehzin.retail

অথবা, সরাসরি আমাদের আউটলেট থেকে পার্চেজ করুন।

আউটলেট লোকেশনঃ এফ এস স্কয়ার, লেভেল-৩, শপ নাম্বার
৪২৮-৪২৯, মিরপুর ১০ গোলচত্তর মেট্রোরেল স্টেশনের সাথে, মিরপুর ১০, ঢাকা।

মেহজিনের পূজা কালেকশন ২০২৪ – ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন

দূর্গা পূজা বাঙালির জীবনে এক অনন্য উৎসব। এই সময়ে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের যান্ত্রিকতা ছেড়ে পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দ করি। পূজার প্রতিটি মুহূর্তকে সুন্দর ও স্মরণীয় করে তোলার একটি বড় অংশ হলো নিজের সাজসজ্জা। মেহজিন এবার দূর্গা পূজা ২০২৪ উপলক্ষে আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে এক অনন্য এবং বৈচিত্র্যময় শাড়ি ও ড্রেস কালেকশন। এই কালেকশনটি পূজার ঐতিহ্যবাহী শাড়ির রূপকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় নতুন করে সাজিয়েছে, যাতে আপনার পূজার সাজ হয় অনন্য এবং স্মরণীয়।

পূজা কালেকশন ২০২৪ – মেহজিনের বৈচিত্র্য

মেহজিনের পূজা কালেকশনে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাড়ি, থ্রি-পিস, টু-পিস, এবং ওয়ান-পিস পোশাক, যা প্রতিটি বাঙালি নারীর পূজার সাজকে করবে আরও বিশেষ। আমাদের প্রতিটি শাড়ি এবং ড্রেসের ডিজাইন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে আপনি একদিকে পাবেন ঐতিহ্যবাহী সাজ এবং অন্যদিকে থাকবে আধুনিকতার ছোঁয়া।

শাড়ি: শাড়ি ছাড়া পূজার সাজ অসম্পূর্ণ। মেহজিনের পূজা কালেকশনে রয়েছে ব্লেন্ডেড তসর, প্রিমিয়াম কটন, এবং প্রিমিয়াম কটন মিক্স শাড়ি। প্রতিটি শাড়িতে ডিজিটাল প্রিণ্ট, স্ক্রিন প্রিণ্ট, এবং হাতের কাজ করা রয়েছে, যা শাড়িগুলোকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে। শাড়িগুলো সম্পূর্ণ আরামদায়ক এবং সহজে পরিধানযোগ্য, যা আপনাকে পূজার দিনগুলোতে স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে সজ্জিত করবে।

থ্রি-পিস ও টু-পিস: মেহজিনের থ্রি-পিস এবং টু-পিস সেটগুলো আপনার পূজার দিনগুলোকে করবে আরও উজ্জ্বল। সুতি কাপড়ে তৈরি এই ড্রেসগুলো পুরোপুরি আরামদায়ক, যাতে আপনি সারা দিন পূজার আনন্দে মগ্ন থাকতে পারেন। প্রতিটি ড্রেসে রয়েছে আকর্ষণীয় কাজ এবং স্টাইল, যা পূজার সাজে নতুনত্ব নিয়ে আসবে।

শাড়ির বিস্তারিত বিবরণ:

রাধিকা – ব্লেন্ডেড তসর শাড়ি

মূল্য: ৳ 1,980.00
বর্ণনা:
রাধিকা হলো একটি ক্লাসিক ব্লেন্ডেড তসর শাড়ি, যা নরম এবং আরামদায়ক। শাড়িটির ডিজিটাল প্রিণ্ট কাজ এটিকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। পূজার বিশেষ দিনগুলোতে এটি আপনার সাজে আভিজাত্য আনবে।
ব্লাউজ পিস: রানিং ব্লাউজ পিস রয়েছে।
লম্বা ও বহর: ১৩.৫ হাত লম্বা এবং ২.৫ হাত বহর, যা পরিমাপে সামান্য কম-বেশি হতে পারে।

উদয়শ্রী – প্রিমিয়াম কটন মিক্স শাড়ি

মূল্য: ৳ 2,550.00
বর্ণনা:
উদয়শ্রী হলো প্রিমিয়াম কটন মিক্স শাড়ি, যা স্ক্রিন প্রিণ্ট এবং হাতের নকশী-কাথার কাজ সমৃদ্ধ। শাড়িটি অত্যন্ত আরামদায়ক এবং দীর্ঘ সময় পরিধান করার উপযোগী। পূজার দিনে এই শাড়ি আপনার সাজে নিয়ে আসবে সৌন্দর্য এবং স্বাচ্ছন্দ্য।
ব্লাউজ পিস: রয়েছে।

মুনতাহা – ব্লেন্ডেড তসর শাড়ি

মূল্য: ৳ 1,980.00
বর্ণনা:
মুনতাহা হলো ব্লেন্ডেড তসর শাড়ি, যা ডিজিটাল প্রিণ্ট এবং গর্জিয়াস কাজের সমন্বয়ে তৈরি। এই শাড়িটি পূজার দিনের সাজকে করবে আরও উজ্জ্বল এবং অনন্য।
ব্লাউজ পিস: রানিং ব্লাউজ পিস রয়েছে।
লম্বা ও বহর: ১৩.৫ হাত লম্বা এবং ২.৫ হাত (৪৬”) বহর।

হিমু – থ্রি-পিস ড্রেস

মূল্য: ৳ 2,080.00
বর্ণনা:
হিমু একটি আরামদায়ক থ্রি-পিস সেট, যেখানে জামা, সালোয়ার, এবং ওড়না তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে উচ্চ মানের সুতি কাপড়। এতে গর্জিয়াস কাজ করা হয়েছে, যা পূজার দিনগুলোতে আপনাকে আরও আভিজাত্যপূর্ণ করে তুলবে।
ফ্যাব্রিক: সুতি।
সাইজ: ৩৬-৪৬ সাইজে উপলব্ধ।

স্পর্শা – টু-পিস ড্রেস

মূল্য: ৳ ২,৪০০.০০
বর্ণনা:
স্পর্শা হলো একটি আকর্ষণীয় টু-পিস ড্রেস, যা পূজার দিনে আপনার সাজকে করবে আরও অনন্য। সুতি কাপড়ের তৈরি এই ড্রেসটি আরামদায়ক এবং আধুনিক।
ফ্যাব্রিক: সুতি।
সাইজ: ৩৬-৪৬ সাইজে পাওয়া যাচ্ছে।

শাড়ি এবং ড্রেসের বৈশিষ্ট্য:

ডিজাইন ও কাজের বৈচিত্র্য:

মেহজিনের প্রতিটি শাড়ি এবং ড্রেসে রয়েছে আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং গর্জিয়াস কাজ, যা প্রতিটি পোশাককে করে তোলে অনন্য। শাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে হাতের নকশী-কাথার কাজ, স্ক্রিন প্রিণ্ট, এবং ডিজিটাল প্রিণ্ট, যা প্রতিটি শাড়ির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ফ্যাব্রিকের মান:

প্রতিটি শাড়ি এবং ড্রেস তৈরি করা হয়েছে উচ্চ মানের ফ্যাব্রিক দিয়ে, যেমন ব্লেন্ডেড তসর, প্রিমিয়াম কটন, এবং সুতি। এই ফ্যাব্রিকগুলো পরিধানে আরামদায়ক এবং সহজেই পরিবহনযোগ্য।

মেহজিনের অন্যান্য শাড়ি এবং ড্রেসের বিবরণ:

 
নাসিতা – ওয়ান পিস ড্রেস

মূল্য: ৳ ১,১২০.০০
এই ড্রেসটি তৈরি করা হয়েছে সুতি কাপড়ে এবং এর ডিজাইন অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

 

নিলাশা – প্রিমিয়াম কটন মিক্স শাড়ি
মূল্য: ৳ ১,৯২৫.০০
নীলাশা শাড়িটি স্ক্রিন প্রিণ্টের কাজ সমৃদ্ধ এবং এটি আপনার পূজার সাজে আভিজাত্য যোগ করবে।

 

উর্বশী – ব্লেন্ডেড তসর শাড়ি
মূল্য: ৳ ১,৯৮০.০০
উর্বশী শাড়িতে ডিজিটাল প্রিণ্ট এবং গর্জিয়াস কাজ রয়েছে, যা পূজার সাজে আলাদা সৌন্দর্য আনবে।


মৃদুলা – থ্রি-পিস ড্রেস
মূল্য: ৳ ২,২৪০.০০
মৃদুলা থ্রি-পিস ড্রেসটি সুতির তৈরি, যা পূজার সময় আরামদায়ক এবং স্টাইলিশ।

কেন মেহজিনের শাড়ি ও ড্রেস বেছে নেবেন?

আরামদায়ক ফ্যাব্রিক: প্রতিটি শাড়ি এবং ড্রেস তৈরি করা হয়েছে এমনভাবে, যাতে পূজার দিনগুলোতে আপনাকে আরাম এবং স্বাচ্ছন্দ্য দেয়। মেহজিনের শাড়ি এবং ড্রেসগুলো দীর্ঘ সময় পরিধানের জন্য আদর্শ।

আকর্ষণীয় ডিজাইন: মেহজিনের প্রতিটি শাড়ি এবং ড্রেসে রয়েছে ইউনিক ডিজাইন এবং আধুনিক কাজ, যা পূজার সাজকে করবে আরও বিশেষ এবং স্টাইলিশ।

সুলভ মূল্য: আমাদের প্রতিটি শাড়ি এবং ড্রেসের দাম অত্যন্ত সাশ্রয়ী। মেহজিনের লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের সাধ্যের মধ্যে সেরা ফ্যাশন উপহার দেওয়া।

ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং সহজ ডেলিভারি ব্যবস্থা: বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে আমরা আমাদের পণ্য ডেলিভারি দিচ্ছি, সাথে রয়েছে ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা।

অর্ডার করার উপায়

মেহজিনের পূজা কালেকশন ২০২৪ থেকে শাড়ি বা ড্রেস কিনতে, আমাদের ওয়েবসাইট www.mehzin.net ভিজিট করুন। আমাদের প্রতিটি শাড়ি এবং ড্রেস বিশেষ যত্নের সাথে তৈরি, যা আপনার পূজার সাজকে করবে অনন্য।
আমাদের শপ এড্রেস: এফ এস স্কোয়ার, লেভেল – ৪, শপ নাম্বার ৪২৮-৪২৯, মিরপুর – ১০, গোলচত্তর, ঢাকা-১২১৬
আমাদের ফেসবুক পেজ: https://m.me/mehzin.retail

জানেন তো মেহজিন ওয়েবসাইট থেকে অর্ডার করলে ডেলিভারি চার্জ একদম ফ্রী!!

[bkash_token_test]
[bkash_payment_test]

মসলিন শাড়ি কি?

মসলিন বিশেষ এক ধরনের তুলার আঁশ থেকে প্রস্তুতকৃত সূতা দিয়ে বয়ন করা এক প্রকারের অতি সূক্ষ্ম কাপড় বিশেষ। মসলিন তুলার আঁশ থেকে প্রস্তুত করা এক প্রকারের অতি সুক্ষণ কাপড়। এটি প্রস্তুত করা হতো পূর্ব বাংলার সোনারগাঁও অঞ্চলে। মসলিনে তৈরী করা পোশাকসমূহ এতই সুক্কণ ছিলো যে ৫০ মিটার দীর্ঘ মসলিনের কাপড়কে একটি দেশলাই বাক্সে ভরে রাখা যেতো। ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মসলিন উৎপাদন করা হত; তবে বাংলার প্রধান উৎপাদন ক্ষেত্র ছিল ঢাকা ও মুর্শিদাবাদ

মসলিন শাড়ি নামকরণের ইতিহাস

মসলিন কি কেবলই কাপড়? এই বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কথা বললে, ইতিহাসের কথা বললে মসলিনকে বাদ দেওয়ার কোনো উপায়ই যে নেই।  এস. সি. বার্নেল ও হেনরি ইউল নামের দুজন ইংরেজ কর্তৃক প্রকাশিত অভিধান ‘হবসন জবসন’-এ উল্লেখ করা হয়েছে মসলিন শব্দটি এসেছে ‘মসুল’ থেকে। ইরাকের এক বিখ্যাত ব্যবসাকেন্দ্র হল মসুল। এই মসুলেও অতি সূক্ষ্ম কাপড় প্রস্তুত হত। এই ‘মসুল’ এবং ‘সূক্ষ কাপড়’ -এ দুয়ের যোগসূত্র মিলিয়ে ইংরেজরা অতিসূক্ষ্ম কাপড়ের নাম দেয় ‘মসলিন’। অবশ্য বাংলার ইতিহাসে ‘মসলিন’ বলতে বোঝানো হয় তৎকালীন ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উৎপাদিত অতি সূক্ষ্ম এক প্রকার কাপড়কে।

প্রচলিত আছে, মসলিন শিল্পীদের আঙুল কেটে দেওয়ার পরে ঢাকাই মসলিন তৈরি বন্ধ হয়ে যায়। এখন ভারতেও মসলিন তৈরি হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকাই মসলিনের বিশেষত্বই আলাদা। ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে ১৮৫০ সালে। এর ১৭০ বছর পরে বাংলাদেশে আবার বোনা হলো সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন কাপড়ের শাড়ি। ঠিক সে রকমই, যেমনটি বলা হতো—আংটির ভেতর দিয়ে গলে যায় আস্ত একটি শাড়ি। যদিও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মসলিন শাড়ি পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু আপনাদের কথা মাথায় রেখে মেহজিন আকর্ষণীয় ডিজাইনের সেমি মসলিন শাড়ি তৈরির উদ্যোগ নেয়। কাস্টমারদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে মেহজিনই প্রথম নিজস্ব প্রোডাকশন হাউজের মাধ্যমে মসলিন শাড়ি তৈরি করা শুরু করে। হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী শাড়িকে বাচিয়ে রাখতে মেহজিনের প্রয়াশ কাস্টমারদের দ্বারা ভূয়সী প্রসংশার দাবিদার।

ঢাকাই মসলিন শাড়ি

ঢাকাই মসলিন তৈরির জন্য শাড়ির ঐতিহ্য রক্ষার্থে উঠেপড়ে লেগেছিলেন একদল গবেষক। তাঁদেরই ছয় বছরের চেষ্টা আর গবেষণা ফল দিয়েছে। তৈরি করা হয়েছে মসলিনের ছয়টি শাড়ি। যার একটি গবেষকেরা প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন। কিন্তু শুরুতে এক টুকরা ‘অরিজিনাল’ মসলিন কাপড় জোগাতে কলকাতা থেকে লন্ডন পর্যন্ত ছুটতে হয়েছে গবেষকদের। মসলিন বোনার সুতা যেই ‘ফুটি কার্পাস’ তুলার গাছ থেকে তৈরি হয়, সেই গাছ খুঁজে বের করা হয়েছে বিচিত্র সব পন্থা অবলম্বন করে। যান্ত্রিক সভ্যতার এ যুগে এসেও এই শাড়ি তৈরিতে তাঁতিদের হাতে কাটা ৫০০ কাউন্টের সুতাই ব্যবহার করতে হয়েছে।

মসলিন শাড়ি প্রকারভেদ

সাধারণত মসলিনের পার্থক্য করা হয় সূক্ষ্মতা, বুনন শৈলী ও নকশার পার্থক্যে। এসবের উপর ভিত্তি করে মসলিন শাড়িকে বিভিন্নভাগে ভাগ করা যায়ঃ

  • মলবুস খাসঃ আঠারো শতকের শেষদিকে মলবুস খাসের মতো আরেক ধরণের উঁচুমানের মসলিন তৈরি হতো, যার নাম ‘মলমল খাস’। এগুলো লম্বায় ১০ গজ, প্রস্থে ১ গজ, আর ওজন হত ৬-৭ তোলা। ছোট্ট একটা আংটির মধ্যে দিয়ে এ কাপড় নাড়াচাড়া করা যেত। এগুলো সাধারণত রপ্তানি করা হত।
  • সরকার ই আলাঃ বাংলার নবাব বা সুবাদারদের জন্য তৈরি হত এই মসলিন। সরকার-ই-আলা নামের জায়গা থেকে পাওয়া খাজনা দিয়ে এর দাম শোধ করা হত বলে এর এরকম নামকরণ। লম্বায় হত ১০ গজ, চওড়ায় ১ গজ আর ওজন হত প্রায় ১০ তোলা।
  • ঝুনাঃ ঝুনা মসলিনও সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে তৈরি হ্ত, তবে সুতার পরিমাণ থাকত কম। তাই এ জাতীয় মসলিন হালকা জালের মতো হত দেখতে। একেক টুকরা ঝুনা মসলিন লম্বায় ২০ গজ, প্রস্থে ১ গজ হত। ওজন হত মাত্র ২০ তোলা। এই মসলিন বিদেশে রপ্তানি করা হত না, পাঠানো হতো মুঘল রাজ দরবারে।
  • শবনমঃ ভোরে শবনম মসলিন শিশিরভেজা ঘাসে শুকোতে দেয়া হলে শবনম দেখাই যেত না, এতটাই মিহি আর সূক্ষ্ম ছিল এই মসলিন। ২০ গজ লম্বা আর ১ গজ প্রস্থের শবনমের ওজন হত ২০ থেকে ২২ তোলা।
  • ডোরিয়াঃ ডোরা কাটা মসলিন ‘ডোরিয়া’ বলে পরিচিত ছিল। লম্বায় ১০-১২ গজ আর চওড়ায় ১ গজ হত। শিশুদের জামা তৈরি করে দেয়া হত ডোরিয়া দিয়ে।
  • জামদানিঃ মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি কাপড় তৈরি করা হয়। জামদানি বলতে সাধারণত শাড়িকেই বোঝানো হয়। তবে জামদানি দিয়ে নকশি ওড়না, কুর্তা, পাগড়ি, রুমাল, পর্দা প্রভৃতি তৈরি করা হত। ১৭০০ শতাব্দীতে জামদানি দিয়ে নকশাওয়ালা শেরওয়ানির প্রচলন ছিল। এ ছাড়া, মুঘল নেপালের আঞ্চলিক পোশাক রাঙ্গার জন্যও জামদানি কাপড় ব্যবহৃত হত। প্রাচীনকালের মিহি মসলিন কাপড়ের উত্তরাধিকারী হিসেবে জামদানি শাড়ি বাঙালি নারীদের অতি পরিচিত।

বর্তমানে মসলিন

ঢাকা জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত মসলিন খানির দৈর্ঘ্যও ১০ গজ এবং চওড়া ১ গজ, এর ওজন মাত্র ৭ তোলা। তাহলে এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে ঢাকার মসলিন মুঘল শিল্পের স্বর্ণযুগে আরো সুক্ষ্মভাবে তৈরি করা যেতো।

আপনার পছন্দের মসলিন শাড়ি অর্ডার করুন এখুনি।

তাহলে আর দেরি কেনো? এখুনি যোগাযোগ করুন

আপনার পছন্দের মসলিন শাড়ির স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্ডার করুন। অথবা, সরাসরি আমাদের শো রুমে ভিজিট করে, আকর্ষণীয় মূল্য ছাড়ে আপনার পছন্দের মসলিন শাড়ি সংগ্রহ করুন। 

পছন্দের মসলিন শাড়ি অনলাইনে অর্ডার করতে আপনার নাম, মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানাসহ ইনবক্স করুন- m.me/mehzin.retail

অথবা, সরাসরি আমাদের আউটলেট থেকে পার্চেজ করুন।

আউটলেট লোকেশনঃ এফ এস স্কয়ার, লেভেল-৩, শপ নাম্বার
৪২৮-৪২৯, মিরপুর ১০ গোলচত্তর মেট্রোরেল স্টেশনের সাথে, মিরপুর ১০, ঢাকা।

পাঞ্জাবি (Panjabi) কি?

বাঙ্গালী তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ, সবারই আবেগের জায়গা পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবি হচ্ছে একটি পোশাক, যা হাটু পর্যন্ত লম্বা। নাশীতোষ্ণ অঞ্চলের লোকজন পাঞ্জাবি পোশাকটি বেশি পরে। সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবি অপেক্ষাকৃত গরম অঞ্চলের লোকেরা এই ঢিলেঢালা পোশাকটি পরতে ভালোবাসে। উৎসব হোক কিংবা ঘরোয়া অনুষ্ঠান, সকল ক্ষেত্রেই ছেলেদের প্রথম পছন্দ পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবির মত আরামদায়ক পোশাক ছেলদের জন্য আর দুটি নেই। ছেলেদের পাঞ্জাবি একটি শব্দ যা পাঞ্জাব অঞ্চলের ছেলেদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এখন বিভিন্ন রকম পাঞ্জাবির ডিজাইনের সমাহার বার হয়েছে। বাঙ্গালী ছেলেদের ট্রেডিশনাল এবং আরামদায়ক শীর্ষ তালিকায় কাবলি পাঞ্জাবি এখন অন্যতম পোশাক নামে সুপরিচিত।

ঐতিহ্যবাহী পাঞ্জাবি

ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সংস্কৃতি দ্বারা অনুপ্রাণিত পাঞ্জাবি এখন বাঙ্গালিদের মন এ জায়গা জুড়ে নিয়েছে। পাঞ্জাবির ঐতিহ্যবাহী নকশাগুলি প্রায় শতাব্দী ধরে চলে আসছে এবং তা আজও জনপ্রিয়। বিভিন্ন কাপড় এবং ক্লাসিক প্রিন্টেড ডিজাইন সমন্বিয়ে তৈরি হয়ে থাকে নকশাদার পাঞ্জাবি। প্রতিদিনের পরিধানের জন্য হোক বা বিয়ের এর জন্য প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত।আধুনিক পাঞ্জাবি ডিজাইনগুলি আরও গাঢ় রঙ এবং নতুন আকার-আকৃতির কারুকর্মে রুপান্তি হচ্ছে। আধুনিক পাঞ্জাবি ডিজাইনে ফুল, লাইন-ওয়ার্ক, পুঁতি, ট্যাসেল, মিরর-ওয়ার্ক এবং আরও অনেক কিছু কাজ করা থাকে।

সলিড কালার পাঞ্জাবি

ছেলেদের সিম্পেল এক কালার পাঞ্জাবি আজ অনেক বেশি চাহিদায় রয়েছে। এক কালার পাঞ্জাবির মধ্যে সেরকম কোনো ডিজাইন না থাকলেও এটি সাধারণত নেক ডিজাইন এবং হাতার মধ্যে সুতা বা এম্ব্রয়ডারির কাজ করা থাকে।

ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবি

একদিকে গরমে তেমন অন্য দিকে আরাম আর সে সঙ্গে রঙিন সূচীকাজের নকশাদার ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবি যেনো একটি অন্যরকম জায়গায় জুড়ে রয়েছে। বিয়ে, রিসেপ্সশন, বৈশাখী আর পহেলা ফাগুন বা ভ্যালেন্টাইন’স এর মত অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের তালিকায় রাখছেন এই ডিজাইনার পাঞ্জাবি।

তরুণদের পছন্দের শীর্ষে মেহজিন ব্রান্ডের পাঞ্জাবি

তাহলে আর দেরি কেনো? এখুনি যোগাযোগ করুন

আপনার পছন্দের পাঞ্জাবির স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্ডার করুন। অথবা, সরাসরি আমাদের শো রুমে ভিজিট করে, আকর্ষণীয় মূল্য ছাড়ে আপনার পছন্দের পাঞ্জাবি সংগ্রহ করুন। 

পছন্দের পাঞ্জাবি অনলাইনে অর্ডার করতে আপনার নাম, মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানাসহ ইনবক্স করুন- m.me/mehzin.retail

অথবা, সরাসরি আমাদের আউটলেট থেকে পার্চেজ করুন।

আউটলেট লোকেশনঃ এফ এস স্কয়ার, লেভেল-৩, শপ নাম্বার
৪২৮-৪২৯, মিরপুর ১০ গোলচত্তর মেট্রোরেল স্টেশনের সাথে, মিরপুর ১০, ঢাকা।

হাফ সিল্ক শাড়ি কি / কাকে বলে?

শাড়ি বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায়। বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে হাফ সিল্ক শাড়ি। কিন্তু হাফ সিল্ক শাড়ি কাকে বলে? যে সব শাড়ি কৃত্রিম সিল্ক সুতা ও সুতি সুতা মিক্সড করে বুনন করা হয় তাকে হাফ সিল্ক শাড়ি বলা হয়। সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে রেশম গুটির থেকে যে আসল রেশম সুতা তৈরি হয়। আর সেই রেশম সুতা দিয়ে যে সকল শাড়ি বুনন করা হয় তাদের কে ফুল সিল্ক বা শুধু সিল্ক শাড়ি বলা হয়।

সুতরাং হাফ সিল্ক শব্দ থেকেই বুঝা যায় হাফ মানে অর্ধেক সিল্ক সুতা। আর এই হাফ সিল্ক বা অর্ধেক সিল্ক সুতার সাথে সাধারনত বুননের সময় সুতি সুতা দিয়ে বুনন করা হয়। আর টানায় হাফ সিল্ক সুতা থাকে। এর ফলে এই দুই ধরনের সুতা মিলে যে কাপর টা বুনন করা হয় তাকেই হাফ সিল্ক শাড়ি বলা হয়।

হাফ সিল্ক শাড়ি চেনার উপায়

হাফ সিল্ক শাড়িগুলো ভারি হয় না। ফলে সহজেই ক্যারি করা যায়। হাফ সিল্ক সুতা ও খাঁটি সিল্ক বা রেশম সুতা চেনার এক মাত্র উপায় রেশম সুতা বা সুতি সুতা পুড়লে থেমে থেমে আগুন জ্বলবে। পুড়া শেষ হলে সুতি ও রেশম সুতার কপরে একটু অংশ হলেও ছাই পাওয়া যাবে। কিন্তু হাফ সিল্ক সুতাতে আগুন ধরালে একবারে ধপ করে সম্পূর্ণ কাপরে আগুন লেগে সুতা গলে পানির মতো শেষ হয়ে যাবে। পোড়া শেষে কোন রকম ছাই হবে না বা পাওয়াও যাবে না।

এছাড়াও,  আপনি যখন হাফ সিল্ক শাড়ি কিনবেন তখন আপনি শাড়ির একটি অংশ আপনার হাতের মধ্যে নিয়ে দুই হাত দিয়ে একটু মুচড়িয়ে দেখবেন। মোচড়ানোর পরে যদি শাড়িটি ভাগ হয়ে যায়, তাহলে শাড়িটি নকল।

হাফ সিল্ক শাড়ির বৈশিষ্ট্য

আমরা অনেকেই হাফ সিল্ক শাড়ি পরতে পছন্দ করি তবে আমরা এটা কি জানি যে হাফ সিল্ক কাপড়ের
বৈশিষ্ট্য কি কি? অনেকেই জানিনা কাপড় কেনার পর যে এটা আসল না নকল। তো এখন আমরা হাফ সিল্ক শাড়ির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানবো।

  •  হাফ সিল্ক শাড়ি সাধারণত রেশম সুতা দিয়ে তৈরি করা হয় তাই এই কাপড়টি যখন পোড়ানো হয় বা একটু আগুন লাগে তাহলে রেশমের গন্ধ বের হয়।
  • খালী চোখে দেখলে বোঝা যাবে বাস্তবে রেশম একটি সুন্দর দীপ্তি রয়েছে। অন্যদিকে,  রাসায়নিক ফাইবারে দিয়ে তৈরি ফেব্রিক একটু কম উজ্জ্বল  হয়।
  • হাফ সিল্ক শাড়িগুলো ভারি হয় না। ফলে সহজেই ক্যারি করা যায়।

মেহজিন ব্রান্ডের হাফ সিল্ক শাড়ি

তাহলে আর দেরি কেনো? এখুনি যোগাযোগ করুন

আপনার পছন্দের শাড়ির স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অর্ডার করুন। অথবা, সরাসরি আমাদের শো রুমে ভিজিট করে, আকর্ষণীয় মূল্য ছাড়ে আপনার পছন্দের শাড়ি সংগ্রহ করুন। 

পছন্দের শাড়ি অনলাইনে অর্ডার করতে আপনার নাম, মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানাসহ ইনবক্স করুন- m.me/mehzin.retail

অথবা, সরাসরি আমাদের আউটলেট থেকে পার্চেজ করুন।

আউটলেট লোকেশনঃ এফ এস স্কয়ার, লেভেল-৩, শপ নাম্বার
৪২৮-৪২৯, মিরপুর ১০ গোলচত্তর মেট্রোরেল স্টেশনের সাথে, মিরপুর ১০, ঢাকা।